Graphic Design

স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়ুন ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইনে

খুব সহজে ফ্রিল্যান্সার হতে চান? যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান তাহলে ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন। বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র আর তুমুল চাহিদা থাকার কারণে একজন প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনারের গ্রহণযোগ্যতা খুবই বেশি। অন্য সব পেশা থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন পেশাটি সবচেয়ে নিরাপদ, ঝামেলাবিহীন ও স্বাধীনতা পূর্ণ।অন্য সব পেশার বিপরীতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কোনো কাজের অভাব হয় না। এটি একটি সম্মানজনক পেশাও ।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি?

গ্রাফিক্স ডিজাইন এমন একটি প্রসেস যার মাধ্যমে যে কোন তথ্য বা ছবি মানুষের কাছে বাস্তবরূপে উপস্থাপন করা যায়। একজন গ্রাফিক ডিজাইনারই পারেন তার কাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারির উপর প্রভাব ফেলতে এবং সংক্ষিপ্ত ও নান্দনিক উপায়ে তথ্য পোঁছে দিতে।

কি জানা লাগবেঃ

গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার জন্য আপনাকে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার প্রয়োজন নেই তবে ইংরেজিতে মোটামুটি দক্ষতা থাকলে অনেক ভালো করতে পারবেন। কারণ,ইংরেজি হল ইন্টারন্যাশনাল ভাষা এই ভাষার মাধ্যমে যে কোন দেশের যে কোন বর্নের মানুষের সাথে আপনি কমোনিকেট করতে পারবেন। এ ছাড়া কম্পিউটার অপারেট করা জানতে হবে অর্থাৎ বেসিক কম্পিউটিং সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যক। আমরা যেহেতু অনলাইনে কাজ করবো, সেহেতু ইন্টারনেট থাক্তেই হবে।ডিজাইনের কাজের জন্য প্রয়োজন ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার যেমন অ্যাডোবি ফটোশপ, অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর, এডোবি ইন ডিজাইন প্রভৃতি।

কিভাবে শিখবেনঃ

* ভালো প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নেয়া।
* প্রতিষ্ঠিত ডিজাইনারের অধীনে কাজ করা।
* অন্যের কাজ অনুসরণ করা।
* অনলাইনে সার্চ করা।
* মানসম্মত টিউটোরিয়াল দেখা।
* ভাল সফটওয়্যার দিয়ে ডিজাইন শিখা।

গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজের ক্ষেত্রঃ

যে কোন পণ্য বা সার্ভিসের প্রচারণার জন্য দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের বিকল্প নেই। তাই সব সময় ডিজাইনারকে কাজ
করতে হয় মানুষের বয়স, আচার-আচরণ, পেশা, চাহিদা প্রভৃতি দিকগুলো বিবেচনা করে।যেহেতু গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের কাজের
ক্ষেত্র বিস্তৃত। তবে বিশেষভাবে যে কাজগুলোর চাহিদা অনেক বেশি, তা নিচে দেয়া হলঃ

১। লোগো ডিজাইন ২। ভিজিটিং কার্ড ডিজাইন ৩। ওয়েবসাইট পিএসডি টেম্প্লেট ডিজাইন ৪। ওয়েব ব্যানার ডিজাইন
৫। বুক কভার ডিজাইন ৬। টি-শার্ট ডিজাইন ৭। পোস্ট কার্ড ডিজাইন ৮। বিজ্ঞাপন ডিজাইন ৯। আইকোন ডিজাইন
১০। ডিজিটাল ইমেজ প্রসেসিং ১১। ব্রুশিয়ার ডিজাইন ১২। মোবাইল অ্যাপ/ইউআই ডিজাইন ইত্যাদিসহ আরো অনেক
কাজ পাওয়া যায়।

লোগো ডিজাইনঃ

লোগো হচ্ছে একটি কোম্পানির পরিচয় বা ব্র্যান্ড। লোগোর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে চেনা যায় খুব সহজেই। বিশ্বের নামকরা ব্র্যান্ড
অ্যাপল, স্যামসাং, গুগল কিংবা ফেইসবুক এবং বাংলাদেশের ব্র্যান্ড আড়ং, গ্রামীণফোন কিংবা প্রাণ শুধুমাত্র তাদের লোগো দেখেই
চিনতে পারা যায়। মানসম্মত দৃষ্টিনন্দন লোগো কিন্তু একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারকেই তৈরি করতে হয়।লোগো যেমন লোকাল
বিজনেসে প্রয়োজন হয় তেমনি তা অনলাইনেও বহুল চাহিদা সম্পন্ন একটি বিষয়।

ওয়েব ডিজাইনঃ

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে অনলাইন বিপ্লবের এই যুগে ওয়েবসাইটের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা কতটুকু। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সামাজিক সংগঠন এমনকি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটও অনেকে তৈরি করতে চান। আর ব্যবসার প্রসারে ওয়েবসাইট অতি প্রয়োজনীয় একটি হাতিয়ার। ওয়েবসাইট ডিজাইনের জন্য একজন গ্রাফিক ডিজাইনারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুদৃশ্য বাটন তৈরি, ব্যানার তৈরি, ইমেজ এডিটিং, আইকন তৈরি প্রভৃতি কাজ করা ছাড়াও একজন গ্রাফিক ডিজাইনার পিএসডি টেম্পলেটের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ ওয়েব সাইটের আর্কিটেকচার তৈরি করতে পারেন।

ভিজিটিং কার্ড তৈরিঃ

ডিরেক্ট মার্কেটিং বা ব্র্যান্ডিং এর জন্য ভিজিটিং কার্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান উভয়েরই পরিচিতি বৃদ্ধির জন্য ভিজিটিং কার্ড জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। ভিজিটিং কার্ডের পরিসর ছোট হওয়ার কারণে এখানে ডিজাইন করতে হয় সুন্দরভাবে যাতে সংক্ষেপে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ফুটিয়ে তোলা যায়। ভিজিটিং কার্ড গ্রাফিক্স ডিজাইনের একটি অন্যতম ক্ষেত্র। লোকাল মার্কেটেই শুধু নয়, অনলাইনেও আপনার ডিজাইনকৃত ভিজিটিং কার্ড সেইল করে আয় করতে পারবেন।

এর বাইরেও ব্রশিয়র ডিজাইন, পোস্টার ডিজাইন, টি-শার্ট ডিজাইন সহ রয়েছে আরও অনেক ক্ষেত্র। শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করে শুরু করতে পারেন ডিজাইনার হিসেবে আপনার ক্যারিয়ার।

কোথায় জব পাবেনঃ

– বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান
– পত্রিকা/ম্যাগাজিন/প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান
– অনলাইন মার্কেট প্লেইস
– প্রিন্টিং এবং ডিজাইনিং প্রতিষ্ঠান
– ওয়েব ডেভেলপিং প্রতিষ্ঠান

গ্রাফিক্স সম্পর্কিত আউটসোর্সিং কাজের ওয়েবসাইটঃ

গ্রাফিক্স প্রতিযোগীতাঃ কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখানে সবাই ক্লাইন্টের চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন সাবমিটের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে এবং যে বিজয়ী হয়, সে ঐ প্রতিযোগিতার নির্ধারিত অর্থ পায়। এই ধরনের প্রতিযোগিতা হয় এমন উল্লেখ যোগ্য সাইট হচ্ছেঃ
www.99designs.com
www.freelancer.com/contest
https://www.logodesignguru.com/
https://www.48hourslogo.com/
http://www.hatchwise.com/
https://logotournament.com/
https://www.logomyway.com/
https://www.crowdspring.com/

ডিজাইন বিক্রিঃ

আবার কিছু কিছু সাইট আছে, যেখানে আপনার তৈরি বিভিন্ন আইটেম আপলোড করে রাখবেন এবং সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। যেমনঃ
www.graphicriver.net
www.creativemarket.com
www.codegrape.com
www.designcrowd.com
www.freelancer.com/marketplace

বিড করে কাজ :

আবার কিছু কিছু সাইট আছে, যেখানে ক্লাইন্টের জবে বিড করে কাজ করা যায়। যেমনঃ
www.upwork.com
www.freelancer.com
www.peopleperhour.com
www.guru.com

অন্যান্যঃ

উপরে উল্লেখিত সাইট গুলো ছাড়াও আরও অনেক সাইট রয়েছে যেখান থেকেও প্রচুর গ্রাফিক্সের কাজ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য
হচ্ছেঃ www.fiverr.com

যেসব বিষয়ে আপনাকে যত্নবান হতে হবেঃ

-> অবশ্যাই ভালভাবে কাজ শেখা।
-> নিজে থেকে কিছু করার চেষ্টা করা (ক্রিয়েটিভিটি)
-> নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখা
-> প্রতিষ্ঠিত ডিজাইনারদের কাজ অনুসরণ করা
-> কাজের স্যাম্পল টেম্পলেট/ পোর্টফলিও তৈরি করে রাখা
-> প্রতিদিন ডিজাইন করা
-> নিজের মার্কেটিং করা

কিভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখবেনঃ

গ্রাফিক্স ডিজাইন আপনি তিনটি মাধ্যমে শিখতে পারেন। ইন্টারনেটে টিউটরিয়াল দেখে দেখে অথবা ভাল কোন ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাছ থেকে অথবা ভাল কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষন নিতে পারেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষন অনেক বেশি ইফেক্টিভ,কারন সেখানে কাজ শেখানোর পাশাপাশি কাজ কি আসলেই শিখতেছে কি না তাও দেখা হয়, অবশ্যই তা যদি ভালো ও নির্ভরযোগ্য প্রতিস্থান হয়ে থাকে।

একজন ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইনার কেমন আয় করেন?

আয়ের বিষয়টি সম্পুর্ণ নির্ভর করে স্কিল এবং অভিজ্ঞতার উপর, একজন নতুন গ্রাফিক ডিজাইনার যেমন আয় করে একজন অভিজ্ঞ গ্রাফিক্স ডিজাইনার তার
চেয়ে কয়েকগুন বেশি আয় করে। সাধারণত একজন নতুন (৬মাস-১বছর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন) ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইনার অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রতি ঘন্টায়
১০/২০ ডলার রেটে কাজ করেন এবং মাসে এভারেজ ২০,০০০-৫০,০০০ টাকা আয় করতে পারেন। একজন কয়েক বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিজাইনার প্রতি
ঘন্টায় ২০/৬০ ডলার বা তার চাইতে বেশি টাকা আয় করতে পারেন মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারেন, বাংলাদেশে অনেক ডিজাইনার রয়েছেন যারা প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করেন।

যারা এখনো ভাবছেন কি করা যায়, দ্বিধা-দ্বন্দে দিন কাটাচ্ছেন তারা নিঃসন্দেহে শুরু করে দিন গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার কাজ। দেশে বিদেশে আপনার জন্য কাজের ক্ষেত্র প্রস্তুত। উচ্চমানের চাহিদা সম্পন্ন একটি প্রফেশন হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইন।

Write Your Comment

Pin It on Pinterest

Shares
Share This