Facebook Security

কিভাবে ফেসবুক হ্যাক হয় ও আপনার ফেসবুক একাউন্টটি সুরক্ষিত রাখবেন

ফেসবুক শুধু মাত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, এটাকে বর্তমানে আমাদের ঘর বাড়ি বানিয়ে ফেলেছি। লাইফের অর্ধেক রিয়েল লাইফ, অর্ধেক ফেসবুক, ইন্সটাতে.

সুতরাং একটা আইডি হ্যাক হলে সেখান থেকে ব্লাকমেইল, সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট, সামাজিকভাবে হ্যারাস সবই হচ্ছে এখন। বিশেষ করে আমাদের সামাজিক পরিস্থিতির আলোকে সব থেকে বেশি বিপদে পড়েন মেয়েরা। বেশিভাগ ক্ষেত্রেই কোনো ধরনের লিগাল স্টেপ নিতে পারেন না তারা। আর সাইবার স্পেসের মত ভয়াবহ জায়গায় যে কোনো ধরনের সমস্যায় তো আরো পারেন না। সুতরাং ফেসবুক সিকিউরিটি নিয়ে সবার সচেতন হওয়া আবশ্যিক।

ফেসবুক হ্যাক থেকে বাঁচার জন্য আমাদেরকে ফিসিং সাইট ও কি-লগার সম্পর্কে জানতে হবে।

ফিসিং সাইট কি?

সাধারন যা হয় তা হলো, সাইট গুলো হুবহু ফেসবুকের আদলে বানানো হয়। আপনাকে ইনবক্সে কেও একটা লিংক দিয়ে বললো এখানে এই মজার জিনিস আছে কিংবা বললো “হায় হায়, এখানে তো তোমার ন্যুড পিক রিপোর্ট করো গিয়ে”। আপনি ঢুকে দেখলেন ফেসবুকের লগিন পেজের মত একটা পেজ, ভাবলেন ব্রাউজার থেকে মনে হয় লগ আউট হয়ে গেছে, আবার লগিন দিলেন। এতে করে আপনার পাসোয়ার্ড চলে গেলো হ্যাকারের হাতে। সুতরাং না বুঝে সাইবার স্পেসে কোথাও পাসোয়ার্ড ইনপুট দেয়া, ফেসবুক আইডি লগিন দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

কিছুদিন পর পর ট্রেন্ড বের হয় বাবুর নাম কি হবে, আপনার বিড়ালের বাচ্চার কয়টা শিং থাকবে,পোষা মুরগ আগামি মাসে কটা ডিম পারবে, আপনি কি কুটিপতি হবে না লাখপতি হবেন, এই এপস গুলো থেকে যতটা পারেন দূরে থাকুন। অন্তত ক্লিক করার আগে দেখে নিন কি কি ইনফরমেশন চাচ্ছে।

কি-লগার কি?

-সহজে বলতে গেলে চোরা পথ, ওপেনে এভেইলেবল না। আর বানাতে পারে এক্সপার্টরাই। কি লগার আপনার ডিভাইসে ইন্সটল দিয়ে দিলে আপনার ডিভাইসের এক্টিভিটি স্ক্রিনশট আকারে বা অন্য উপায়ে হ্যাকারের কাছে চলে যাবে। ধরুন আপনি ফেসবুকে লগিন দেয়ার জন্য ইউজার নেম পাসোয়ার্ড টাইপ করলেন। আপনার অজান্তে সেসব তথ্য ফরোয়ার্ড হয়ে যাবে হ্যাকারের কাছে। কি লগার ইন্সটল দিতে হলে আপনার ডিভাইসে ম্যানুয়াল এক্সেস থাকতে হবে সুতরাং এলাকার সবার কাছে হ্যান্ডসেট, ল্যাপটপ বর্গা দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

আসলে ফেসবুক আইডি হ্যাক হয় কিভাবে?

একটা ফেসবুক একাউন্টে এক্সেস নিতে হলে যে বিষয়গুলোতে এক্সেস থাকতে হয়, ফেসবুক একাউন্টে ব্যবহৃত ইমেইল/ইমেইল খোলা যে ফোন নাম্বার দিয়ে সেই নাম্বার /ফেসবুক লগিন দেয়া আছে এমন ডিভাইস (ল্যাপটপ,ফোন,ট্যাব ইত্যাদি) /একাউন্টে যে ফোন নাম্বার দেয়া আছে সেই ফোন নাম্বার। এসবের যে কোনো একটাতে মিনিমাম এক্সেস থাকতেই হবে কেও যদি আপনার আইডি হ্যাক বা এক্সেস নিতে চায়।

আপনার ফোন এলাকার সব মানুষ হাতায়, বয়ফ্রেন্ডকে পাসওয়ার্ড দিয়েছেন, কোন জনমে কার ফোন নাম্বার দিয়ে মেইল খুলেছেন আপনি নিজেও জানেন না। পুরাতন তৃতীয় নাম্বার এক্স বিএফ, চাচাত ভাইয়ের বন্ধুর ছোট ভাইয়ের বোনের দুলাভাই একাউন্ট খুলে দিয়েছিল সেটাই চালাচ্ছেন কোনো সিকিউরিটির কথা চিন্তাভাবনা না করেই!- এহেন কর্মকান্ডে জুকা মামার নিজেরও সাধ্য নেই আপনার আইডি রক্ষা করার। তাই অবশ্যই ই-মেল অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে হবে।

ফেসবুক হ্যাক থেকে বাঁচার সমাধানঃ

১। Login approvals : অাপনার আইডিতে Settings এ গিয়ে Security Settings এ যাবেন। সেখানে গিয়ে Login approval চালু করে দিবেন।

যেভাবে চালু করবেন- Settings>Security settings>Login approval>Require a login code to access my account from unknown browsers এই লিখাটায় টিক দিবেন। এর পর মোবাইল নাম্বার দিয়ে ok করে দিলেই login approval on হয়ে যাবে। Login approval চালু করার ফলে আপনার আইডিতে কেউ প্রবেশ করতে চাইলেই আপনার নাম্বারে কোড যাবে সেটা ছাড়া কেউ আইডি open করতে পারবে না।

২। Trusted Contacts : আপনার আইডিতে Trusted contacts সেট করতে settings এ গিয়ে Security settings এ যাবেন। সেখানে গিয়ে Choose trusted contacts লিখায় খালিঘরে আপনার ৫ জন (৩ জন হলেও চলে) Close বন্ধুকে এড দিয়ে confirm করে আপনি Please Re-enter your password দিয়ে submit দিয়ে ক্লোজ করে দিন।

৩। আপনার আইডির About এ গিয়ে Basic Info তে যাবেন। সেখান গিয়ে contact information এ যা আছে, যেমন (Mobile, Email, Birth date) এই গুলো Only me (Hide) করে রাখবেন।

৪। সব সময় ফোনের ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখবেন না। হ্যাকারদের ঝোঁকই হচ্ছে এ ধরনের সুযোগ খোঁজা। সব সময় ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখলে অপরিচিত ব্যক্তিরাও ফোনের মধ্যে কী আছে, তা দেখার জন্য চেষ্টা চালায়।

সব সময় চালু রাখলে কী সমস্যা? সমস্যা হচ্ছে, আগে কোন কোন নেটওয়ার্কে আপনি সক্রিয় ছিলেন হ্যাকাররা তা জানতে পারেন। আগের সেই নেটওয়ার্কের সূত্র ধরে হ্যাকাররা প্রতারণার ফাঁদ পাতেন। হ্যাকাররা আগের নেটওয়ার্কের ছদ্মবেশে নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি করে আপনার ফোনকে আগের কোনো ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য প্রলোভন দেখায়। একবার এই নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়লে হ্যাকাররা ফোনে অসংখ্য ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেন এবং আপনার অজান্তেই ফোন থেকে তথ্য চুরি, নজরদারির মতো কাজগুলো চালিয়ে যান। তাই যখন প্রয়োজন থাকে না, তখনই ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন।

৫। স্মার্ট পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করা। যেমন দীর্ঘ ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। অক্ষর, চিহ্ন, সংখ্যা প্রভৃতি মিলিয়ে পাসওয়ার্ড জটিল করে তুলুন। প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে ‘লাসপাস’ বা ‘পাসওয়ার্ড সেফ’ কাজে লাগতে পারে। প্রতিবছর অন্তত একবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

৬। নিউজ ফিডে অথবা মেসেঞ্জারে সন্দেহজনক কোনো লিঙ্ক দেখলে সঙ্গে সঙ্গে রিমুভ করে দিতে হবে। কনফার্ম না হয়ে যেকোনো গেম, অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যদের পাঠানো কোনো লিঙ্কে ক্লিক করা উচিত না।

৭। পাবলিক কম্পিউটারে (সাইবার ক্যাফে, ল্যাব ইত্যাদি) ফেসবুক ব্যবহার না করাই ভালো। তবে ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারের পর লগ ইন হিস্টরি ডিলিট করে দিতে হবে।

ফেসবুক হ্যাক হলে কি হতে পারে তার একটি ছোট্ট একটা উদাহরন দেই-

আপনার ছবি দিয়ে ফেক আইডি খুলা হচ্ছে, আইডি খোলার আগ পর্যন্ত হয়ত ভাবতে পারেন ফেক আইডি এ আর কি। কিন্তু ফেসবুক আইডি দিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রীকে গালি দিয়ে পোস্ট দিলো কিংবা ধর্মীয় উস্কানিমূলক কর্মকান্ড চালাবে, একবার ভাবুন তো এর ভয়াবয়হতা কোথায় গিয়ে পৌছাবে? কিংবা আপনার নাম ছবি দিয়ে একাউন্ট খুলে আপনার বন্ধুদের কাছে টাকা চাইলো, আপনার অফিসের কলিগকে কুপ্রস্তাব দিলো। একটা ক্লিকে হাজার মানুষকে মেসেজ দেয়া যাবে। ক্যাচুয়ালি কোথায় গিয়ে পৌছাবে একবার চিন্তা করুন।

এধরনের ঘটনা কি ঘটতে পারে?
-পারে না, ঘটছে প্রতিনিয়ত। হাজারে নয় সংখ্যাটা লাখে লাখে।

মোবাইলে ব্যক্তিগত ছবি রাখা হতে বিরত থাকুন। মোবাইল ছিনতাই হলে লোটা কম্বল সব যাবে। ব্যক্তিগত ছবি ভিডিও রাখার খুব ইচ্ছে হলে আলাদা হার্ড ড্রাইভে রেখে তালাবদ্ধ করে রাখুন।

ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল হোন, স্মার্টফোন স্মার্টলি ব্যবহার করুন, ব্যসিক সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে সচেতন হোন। আর অবশ্যই পরিবার পরিচিত ছোটদেরকে এসব বিষয়ে শিক্ষা দিন। স্মার্টফোনটা যেদিন হাতে তুলে দিচ্ছি সেসবের সেফটি সিকিউরিটির বিষয়ে তাদের জানানোও আমাদের কর্তব্য।

Write Your Comment

Ridoy Islam

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ওয়ার্ডপ্রেস এর উপর সফলভাবে কাজ করছেন বেশ কয়েক বছর যাবত । তিনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর উপরেও কাজ করেন ।

Pin It on Pinterest

Shares
Share This